ক্যান্সার একটি জটিল রোগ, যা শরীরের যেকোনো অংশে শুরু হতে পারে। আমাদের শরীর অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত, এবং এই কোষগুলো একটি নির্দিষ্ট নিয়মে বৃদ্ধি পায়, বিভাজিত হয় ও শেষ পর্যন্ত মারা যায়। কিন্তু যখন এই কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং স্বাভাবিক কোষের মতো আচরণ করে না, তখনই ক্যান্সার সৃষ্টি হয়। প্রায় ২০০টিরও বেশি ধরণের ক্যান্সার রয়েছে, এবং প্রত্যেকটির বৈশিষ্ট্য ও চিকিৎসা পদ্ধতি আলাদা। শরীরের যে অংশ থেকে ক্যান্সার শুরু হয় এবং কোষের ধরন অনুযায়ী ক্যান্সারকে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
এটি ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন। এই ধরনের ক্যান্সার শরীরের আবরণী কলা (epithelial tissue) বা শ্লেষ্মা উৎপাদনকারী কোষ থেকে উৎপন্ন হয়, যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ভেতরের বা বাইরের পৃষ্ঠকে আবৃত করে রাখে।
উদাহরণ: স্তন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার, মলাশয়ের ক্যান্সার, ত্বকের ক্যান্সার, অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার ইত্যাদি।
এই ধরনের ক্যান্সার শরীরের যোজক কলা (connective tissue) বা নরম টিস্যু থেকে উদ্ভূত হয়। যোজক কলার মধ্যে রয়েছে হাড়, তরুণাস্থি (cartilage), চর্বি, পেশী, রক্তনালী এবং স্নায়ু।
উদাহরণ: অস্টিওসার্কোমা (হাড়ের ক্যান্সার), লাইপোসার্কোমা (চর্বির ক্যান্সার), রাবডোমায়োসার্কোমা (পেশীর ক্যান্সার) ইত্যাদি।
লিউকেমিয়া হলো রক্ত কোষের ক্যান্সার। এটি সাধারণত অস্থি মজ্জা (bone marrow) থেকে শুরু হয়, যেখানে নতুন রক্ত কোষ তৈরি হয়। লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হলে অস্বাভাবিক শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি হয়, যা রক্তের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে ব্যাহত করে।
উদাহরণ: অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (AML), ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (CML), অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া (ALL), ক্রনিক লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া (CLL) ইত্যাদি।
লিম্ফোমা হলো লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমের ক্যান্সার, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ। লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমের মধ্যে লিম্ফ নোড (lymph nodes), প্লীহা (spleen), থাইমাস (thymus) এবং অস্থি মজ্জা অন্তর্ভুক্ত।
উদাহরণ: হজকিন লিম্ফোমা (Hodgkin lymphoma) এবং নন-হজকিন লিম্ফোমা (Non-Hodgkin lymphoma)।
(ক) ব্যথা উপশম: কিডনি স্টোনের তীব্র ব্যথা উপশমে কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (যেমন Berberis Vulgaris, Lycopodium, Colocynthis) কার্যকর হতে পারে বলে দাবি করা হয়।
এটি প্লাজমা কোষের ক্যান্সার, যা এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা। প্লাজমা কোষ অস্থি মজ্জায় পাওয়া যায় এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে।
উদাহরণ: মাল্টিপল মাইয়েলোমা (Multiple Myeloma)।
এই ধরনের ক্যান্সার মস্তিষ্ক (brain) এবং মেরুদণ্ড (spinal cord) টিস্যু থেকে শুরু হয়।
উপরে উল্লিখিত প্রধান প্রকারগুলো ছাড়াও আরও কিছু বিরল ধরণের ক্যান্সার আছে, যেমন:
(ক) জার্ম সেল টিউমার (Germ Cell Tumors):
যে কোষগুলো ডিম্বাশয় বা শুক্রাশয়ে ডিম্বাণু বা শুক্রাণু তৈরি করে, সেই কোষ থেকে এই ক্যান্সার হয়।
(খ) নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমার (Neuroendocrine Tumors): এটি নিউরোএন্ডোক্রাইন
কোষ থেকে উৎপন্ন হয়, যা স্নায়ুকোষের মতো বৈশিষ্ট্যযুক্ত এবং হরমোন তৈরি করে।
(গ) গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্রোমাল টিউমার (GISTs): এটি পরিপাকতন্ত্রের প্রাচীরের বিশেষ
কোষ থেকে উদ্ভূত হয়।
(ঘ) মেসোথেলিওমা (Mesothelioma): এটি ফুসফুস, পেট বা হার্টের বাইরের আবরণের
টিস্যুতে তৈরি হয়।
ক্যান্সারকে তার ধরন ছাড়াও আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয়:
(ক) গ্রেডিং (Grading): ক্যান্সার কোষগুলো স্বাভাবিক কোষ থেকে কতটা অস্বাভাবিক, তার উপর ভিত্তি করে গ্রেড করা হয়। উচ্চ গ্রেডের ক্যান্সার কোষগুলো বেশি অস্বাভাবিক এবং দ্রুত ছড়াতে পারে।
(খ) স্টেজিং (Staging): ক্যান্সার শরীরের কতটা অংশে ছড়িয়েছে, তার উপর ভিত্তি করে পর্যায় নির্ধারণ করা হয় (পর্যায় I থেকে IV) প্রথম পর্যায়ে ক্যান্সার একটি ছোট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকে, আর চতুর্থ পর্যায়ে ক্যান্সার দূরবর্তী অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে (মেটাস্ট্যাসিস)। ক্যান্সারের ধরন, গ্রেড এবং পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন হয়, যার মধ্যে সাধারণত সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকে।