+8801716-768210    info@azadhomoeohall.com

মাইগ্রেন রোগ কি?

মাইগ্রেন হলো এক ধরনের স্নায়বিক অবস্থা বা ব্যাধি যা তীব্র মাথাব্যথা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। সাধারণত মাথার একপাশে এই ব্যথা হয়, তবে কখনো কখনো এটি মাথার উভয় দিকেও হতে পারে। ব্যথার ধরনটা হয় কম্পন বা স্পন্দিত হওয়ার মতো।


১। মাইগ্রেন রোগ:

মাইগ্রেনের সঙ্গে প্রায়শই আরও কিছু উপসর্গ দেখা যায়, যেমন:
(ক) বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া: এই ব্যথা এত তীব্র হতে পারে যে এর সাথে বমি বা বমি বমি ভাব দেখা দেয়।
(খ) আলো ও শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা: মাইগ্রেন আক্রান্ত ব্যক্তিরা আলো ও শব্দ সহ্য করতে পারেন না। তীব্র আলো বা শব্দ তাদের ব্যথা বাড়িয়ে দেয়।
(গ) দৃষ্টিবিভ্রম: কারো কারো ক্ষেত্রে মাথাব্যথা শুরুর আগে বা ব্যথার সময় চোখের সামনে আলোর ঝলকানি বা অন্য কোনো দৃশ্যমান অস্বাভাবিকতা (যেমন সরষে ফুল দেখা) দেখা যেতে পারে।
(ঘ) কথা বলার অসুবিধা: কিছু ক্ষেত্রে কথা বলতে সমস্যা হতে পারে।
(ঙ) অসাড়তা বা ঝিনঝিন করা: হাত, পা, বা মুখের আশেপাশে ঝিনঝিন বা অসাড় অনুভূতি হতে পারে। মাইগ্রেনের আক্রমণ কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং ব্যথা এতটাই তীব্র হতে পারে যে এটি দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়।

২। মাইগ্রেনের সম্ভাব্য কারণ:

মাইগ্রেন কেন হয় তা পুরোপুরি জানা যায়নি, তবে এটি মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক কার্যকলাপের কারণে ঘটে বলে ধারণা করা হয়। কিছু কারণ এবং উদ্দীপক মাইগ্রেনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যেমন:
(ক) বংশগত কারণ: পরিবারে মাইগ্রেনের ইতিহাস থাকলে এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
(খ) হরমোনজনিত পরিবর্তন: মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মাইগ্রেনের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
(গ) মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: অতিরিক্ত চাপ ও দুশ্চিন্তা মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে।
(ঘ) অনিদ্রা বা ঘুমের অভাব: অপর্যাপ্ত ঘুম মাইগ্রেনকে বাড়িয়ে তোলে।
(ঙ) কিছু খাবার: চকলেট, পনির, কফি, অ্যালকোহল, আঙুরের রস ইত্যাদি কিছু খাবার মাইগ্রেনকে উসকে দিতে পারে।
(চ) পরিবেশগত কারণ: তীব্র আলো, উচ্চ শব্দ, বা আবহাওয়ার পরিবর্তনও মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে।
(ছ) কিছু অভ্যাস: অতিরিক্ত টিভি দেখা, দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইলে কাজ করা ইত্যাদি মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে। মাইগ্রেন একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ, তবে সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে এর আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।