+8801716-768210    info@azadhomoeohall.com

অর্শ বা পাইলস রোগ কি (What is piles disease)?

অর্শ বা পাইলস রোগকে চিকিৎসা পরিভাষায় "হেমোরয়েডস" (Hemorrhoids) বলা হয়। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে মলদ্বার এবং এর নিচের অংশের শিরাগুলো ফুলে যায় এবং প্রসারিত হয়। এই ফুলে যাওয়া শিরাগুলো মলদ্বারের ভিতরে বা বাইরে হতে পারে, যা যথাক্রমে অভ্যন্তরীণ (Internal) বা বাহ্যিক (External) পাইলস নামে পরিচিত।


পাইলস কেন হয়?

পাইলসের সঠিক কারণ সবসময় জানা যায় না, তবে কিছু কারণ এর ঝুঁকি বাড়ায়:

(১) কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া: দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা শিরাগুলোর উপর চাপ বাড়ায়।

(২) অতিরিক্ত কোঁত দেওয়া: মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা।

(৩) দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা: বিশেষ করে টয়লেট সিটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মলদ্বারের শিরাগুলোর উপর চাপ পড়ে।

(৪) স্থূলতা (Obesity): অতিরিক্ত ওজন মলদ্বারের শিরাগুলোর উপর চাপ বাড়ায়।

(৫) গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় জরায়ুর চাপ এবং হরমোনের পরিবর্তনের কারণে পাইলস হতে পারে।

(৬) কম ফাইবারযুক্ত খাবার: পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার না খেলে মল শক্ত হয় এবং মলত্যাগে সমস্যা হয়।

(৭) ভারী জিনিস তোলা: নিয়মিত ভারী জিনিস তুললে পেটের উপর চাপ পড়ে, যা পাইলসের কারণ হতে পারে।

(৮) বংশগত প্রবণতা: পরিবারে কারও পাইলস থাকলে আপনার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

পাইলসের লক্ষণ:

পাইলসের ধরন এবং অবস্থানের ওপর নির্ভর করে লক্ষণগুলো ভিন্ন হতে পারে। কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো-

(১) মলত্যাগের সময় রক্তপাত: উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যায়, যা সাধারণত ব্যথাযুক্ত হয় না। রক্ত টয়লেট পেপারে, মলের সাথে বা কমোডে দেখা যেতে পারে।

(২) মলদ্বারে ব্যথা বা অস্বস্তি: বাহ্যিক পাইলসের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যথা বেশি হয়।

(৩) মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া: মলদ্বারের আশেপাশের ত্বক আক্রান্ত হতে পারে।

(৪) মলদ্বারের কাছে পিণ্ড বা গোটা: মলদ্বারের বাইরে ফোলা বা মাংসপিণ্ডের মতো অনুভব হতে পারে। এটি মলত্যাগের সময় বেরিয়ে আসতে পারে এবং পরে নিজে নিজে ভেতরে ঢুকে যেতে পারে বা হাতে করে ঢোকাতে হতে পারে।

(৫) মলত্যাগের পর অসম্পূর্ণতার অনুভূতি: মনে হতে পারে মল পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি।

(৬) শ্লেষ্মা নির্গমন: মলদ্বার থেকে পিচ্ছিল শ্লেষ্মাযুক্ত পদার্থ বের হতে পারে।

পাইলসের প্রকারভেদ:
১. অভ্যন্তরীণ পাইলস (Internal Hemorrhoids): মলদ্বারের গভীরে অবস্থিত। এগুলো সাধারণত ব্যথা সৃষ্টি করে না, তবে রক্তপাত হতে পারে। বড় হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে (প্রোল্যাপসড পাইলস)।

2. বাহ্যিক পাইলস (External Hemorrhoids): মলদ্বারের বাইরের ত্বকের নিচে অবস্থিত। এগুলো প্রায়শই ব্যথা, চুলকানি এবং ফোলা সৃষ্টি করে। রক্ত জমাট বেঁধে (থ্রম্বোসিস) ব্যথা তীব্র হতে পারে। পাইলস একটি সাধারণ সমস্যা এবং সাধারণত মারাত্মক হয় না। জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং ঘরোয়া উপায়ে এর লক্ষণগুলি কমানো যেতে পারে। তবে রক্তপাত বা অন্যান্য গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ এই লক্ষণগুলো অন্য কোনো রোগের (যেমন কোলোরেক্টাল ক্যান্সার) কারণেও হতে পারে।