+8801716-768210    info@azadhomoeohall.com

ডিস্ক প্রোট্রুশন (Disc Protrusion):

ডিস্ক প্রোট্রুশন (Disc Protrusion) হলো মেরুদণ্ডের দুটি কশেরুকার (vertebrae) মাঝখানে থাকা ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্কের এক ধরনের অস্বাভাবিকতা। এটি ডিস্ক বাল্জের চেয়ে কিছুটা গুরুতর অবস্থা। এক্ষেত্রে নিউক্লিয়াস পাল্পোসাস বাইরের আবরণের দুর্বল অংশের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করে, তবে এটি এখনও অ্যানুলাস ফাইব্রোসাসের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং তার বাইরের আবরণ ছিঁড়ে যায় না। ডিস্কের প্রসারিত অংশের ভিত্তি বাইরের অংশের ব্যাসের চেয়ে চওড়া হয়, যা একটি 'মাশরুম'- এর মতো আকৃতি তৈরি করে।


ডিস্ক প্রোট্রুশন কী?

আমাদের মেরুদণ্ডের প্রতিটি ডিস্কের দুটি প্রধান অংশ থাকে:
(ক) নিউক্লিয়াস পাল্পোসাস (Nucleus Pulposus): এটি ডিস্কের ভেতরের জেলির মতো নরম অংশ, যা শক অ্যাবজরবার হিসেবে কাজ করে।
(খ) অ্যানুলাস ফাইব্রোসাস (Annulus Fibrosus): এটি ডিস্কের বাইরের দিকের শক্ত তন্তুময় আবরণ, যা নিউক্লিয়াস পাল্পোসাসকে ঘিরে রাখে এবং স্থিতিশীলতা প্রদান করে।

ডিস্ক প্রোট্রুশনের ক্ষেত্রে যা ঘটে:

(১) দুর্বল অংশ দিয়ে নিউক্লিয়াসের বেরিয়ে আসা: অ্যানুলাস ফাইব্রোসাসের কোনো একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে। এই দুর্বলতার কারণে, ভেতরের নরম নিউক্লিয়াস পাল্পোসাস সেই দুর্বল অংশের মধ্য দিয়ে বাইরের দিকে ঠেলে বের হতে শুরু করে।
(২) সংযুক্ত থাকা: গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অবস্থায় নিউক্লিয়াস পাল্পোসাস অ্যানুলাস ফাইব্রোসাসের সাথে সম্পূর্ণভাবে সংযুক্ত থাকে। অর্থাৎ, বাইরের আবরণটি ছিঁড়ে যায় না বা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয় না।
(৩) 'মাশরুম' আকৃতি: ডিস্কের যে অংশটি প্রসারিত হয়, তার ভিত্তি (যেখানে এটি ডিস্কের সাথে সংযুক্ত থাকে) বাইরের অংশের ব্যাসের চেয়ে চওড়া হয়। এটি দেখতে অনেকটা মাশরুমের মতো আকৃতি ধারণ করে, যেখানে উপরের অংশটি তুলনামূলকভাবে সরু বা ছোট এবং ভিত্তিটি চওড়া।

কেন এটি ঘটে?

ডিস্ক প্রোট্রুশনের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে প্রধান কিছু হলো:
(ক) বার্ধক্য: বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিস্কের জলীয় উপাদান কমতে থাকে এবং এটি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
(খ) আঘাত বা ট্রমা: মেরুদণ্ডে সরাসরি আঘাত লাগলে বা হঠাৎ কোনো মোচড় লাগলে ডিস্কের ক্ষতি হতে পারে।
(গ) ভুল ভঙ্গিমা: দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিমায় বসা বা দাঁড়ানো মেরুদণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
(ঘ) অতিরিক্ত ওজন: শরীরের অতিরিক্ত ওজন মেরুদণ্ড এবং ডিস্কের উপর চাপ বাড়ায়।
(ঙ) শারীরিক শ্রম: ভারী জিনিস তোলা বা বারবার বাঁকা হয়ে কাজ করা ডিস্কের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

লক্ষণসমূহ

ডিস্ক প্রোট্রুশনের লক্ষণ নির্ভর করে ডিস্কের স্ফীত অংশটি মেরুদণ্ডের কোন স্নায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি করছে তার উপর। কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো:
(ক) ব্যথা: পিঠের নির্দিষ্ট স্থানে তীব্র বা হালকা ব্যথা হতে পারে। ব্যথা কোমর থেকে পা পর্যন্ত (সায়াটিকা) বা ঘাড় থেকে হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
(খ) ঝিনঝিন করা বা অসাড়তা: আক্রান্ত স্নায়ুর পথে ঝিনঝিন করা বা অসাড় অনুভূতি হতে পারে।
(গ) পেশী দুর্বলতা: পেশী দুর্বল হয়ে যেতে পারে, যার ফলে হাঁটাচলা বা জিনিস তুলতে অসুবিধা হতে পারে।
(ঘ) নড়াচড়ায় সীমাবদ্ধতা: পিঠ বা ঘাড়ের নড়াচড়া সীমিত হয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসা

ডিস্ক প্রোট্রুশনের চিকিৎসা মূলত এর তীব্রতা এবং লক্ষণের উপর নির্ভর করে। কিছু সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি হলো:
(ক) বিশ্রাম: পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ করলে ডিস্কের উপর চাপ কমে এবং আরোগ্য লাভ ত্বরান্বিত হয়।
(খ) ব্যথানাশক ঔষধ: ব্যথা এবং প্রদাহ কমানোর জন্য নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (NSAIDs) বা পেশী শিথিলকারী ঔষধ ব্যবহার করা হয়।
(গ) ফিজিওথেরাপি: ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে পেশী শক্তিশালী করা এবং নমনীয়তা বাড়ানোর জন্য ব্যায়াম শেখানো হয়।
(ঘ) ইনজেকশন: কিছু ক্ষেত্রে, সরাসরি আক্রান্ত স্থানে স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয় ব্যথা ও প্রদাহ কমানোর জন্য।
(ঙ) সার্জারি: যদি অন্যান্য চিকিৎসায় উন্নতি না হয় এবং স্নায়ুর উপর গুরুতর চাপ থাকে, তবে সার্জারি একটি বিকল্প হতে পারে। ডিস্ক প্রোট্রুশন একটি গুরুতর অবস্থা হলেও, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে এর লক্ষণগুলি নিয়ন্ত্রণ করা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব। যদি এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।