যক্ষ্মা (টিবি) একটি গুরুতর সংক্রামক রোগ যা মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এটি প্রধানত ফুসফুসকে আক্রমণ করে, তবে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন গ্রন্থি, অস্থি, অন্ত্রনালী এবং মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সঠিক চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।
(ক) দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করুন।
(খ) যক্ষ্মা নির্ণয় হলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
(গ) চিকিৎসক যে অ্যান্টিবায়োটিকগুলো দেবেন, সেগুলো নিয়মিত, ক্রমাগত এবং পূর্ণমেয়াদে গ্রহণ
করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত ৬ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত ওষুধ সেবন করতে হয়। ওষুধ খাওয়া বন্ধ করলে
যক্ষ্মার জীবাণু শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং সাধারণ ওষুধ কাজ নাও করতে পারে, যা মাল্টি ড্রাগ রেসিস্ট্যান্ট
(MDR) টিবি নামে পরিচিত।
(ক) কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখুন। টিস্যু
ব্যবহার করে তা জিপলক ব্যাগে ভরে ফেলে দিন।
(খ) জনাকীর্ণ স্থান এড়িয়ে চলুন।
(গ) রোগীর সংস্পর্শে আসার সময় মাস্ক ব্যবহার করুন।
(ঘ) আলো-বাতাসপূর্ণ স্থানে ঘুমানো এবং থাকা উচিত।
(ক) প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার: চর্বিহীন মাংস (মুরগি, টার্কি, মাছ), ডিম,
ডাল (মসুর, মটরশুঁটি, ছোলা), দুগ্ধজাত পণ্য (কম চর্বিযুক্ত দুধ, দই, পনির), বাদাম এবং বীজ।
(খ) ফল ও শাকসবজি: পাতাযুক্ত সবুজ শাক (পালংশাক, পুঁইশাক),
সাইট্রাস ফল (কমলা, জাম্বুরা, লেবু), বেরি (ব্লুবেরি, রাস্পবেরি, স্ট্রবেরি), মিষ্টি আলু, গাজর।
(গ) আস্ত শস্যদানা: বাদামি ভাত, গমের রুটি, পাস্তা, ওটস।
(ঘ) স্বাস্থ্যকর চর্বি: অ্যাভোকাডো, জলপাই তেল, চর্বিযুক্ত মাছ
(স্যামন, সার্ডিন), বাদাম ও বীজ।
(ঙ) পর্যাপ্ত তরল: পানি, ভেষজ চা, স্যুপ (সবজি, মুরগির মাংস
বা হাড়ের ঝোল)।
(ক) প্রক্রিয়াজাত ও উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার।
(খ) তেলেভাজা খাবার।
(গ) বেকড পণ্য (কুকিজ, কেক, পেস্ট্রি)।
(ঘ) চিনিযুক্ত পানীয় ও স্ন্যাকস।
(ঙ) প্রক্রিয়াজাত মাংস (বেকন, সসেজ)।
(চ) অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন।
(ছ) কাঁচা বা কম রান্না করা খাবার।
(জ) ধূমপান (যক্ষ্মা হওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও ফুসফুসের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়)।
(ক) পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
(খ) ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
(গ) পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং ঘনিষ্ঠদের পরীক্ষা করানো উচিত।
(ঘ) শিশুদের জন্মের পরপরই বিসিজি টিকা দিন।
(ঙ) স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিৎসকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন এবং যেকোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা সমস্যা
হলে তাৎক্ষণিকভাবে জানান। মনে রাখবেন, যক্ষ্মা নিরাময়যোগ্য একটি রোগ। সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনযাত্রার
পরিবর্তন আপনাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে পারে।