যক্ষ্মা (Tuberculosis বা TB) একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এটি মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস (Mycobacterium tuberculosis) নামক ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা হয়।
(ক) বায়ুবাহিত: যক্ষ্মার জীবাণু বাতাসের
মাধ্যমে ছড়ায়। যক্ষ্মা আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় বাতাসে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার
মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দেয়, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে অন্য সুস্থ ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
(খ) ব্যাপক সংক্রমণ: বিশ্বব্যাপী এটি একটি অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, COVID-19 এর পরে যক্ষ্মা বিশ্বজুড়ে দ্বিতীয় সংক্রামক ঘাতক। প্রতি বছর লক্ষ
লক্ষ মানুষ এতে আক্রান্ত হয় এবং অনেকে মারা যায়।
(গ) ফুসফুসের বাইরেও সংক্রমণ: যদিও যক্ষ্মা প্রাথমিকভাবে ফুসফুসকে
আক্রমণ করে, তবে এটি শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন কিডনি, মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, হাড়, লিম্ফ গ্রন্থি ইত্যাদিও
আক্রান্ত করতে পারে।
(ঘ) চিকিৎসা না করালে মৃত্যু: যদি যক্ষ্মা রোগের সঠিক চিকিৎসা না করা হয়,
তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রায় অর্ধেকই মৃত্যুবরণ করে।
(ক) সুপ্ত যক্ষ্মা: অনেকে যক্ষ্মার জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত
হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মধ্যে কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না। এটিকে সুপ্ত যক্ষ্মা বলা হয়। প্রায় ১০% সুপ্ত সংক্রমণ
পরবর্তীতে সক্রিয় রোগে পরিণত হয়।
(খ) চিকিৎসা: যক্ষ্মা সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।
তবে চিকিৎসার পূর্ণ কোর্স সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় জীবাণু প্রতিরোধক হয়ে উঠতে পারে।
(গ) প্রতিরোধ: বিসিজি টিকা, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানো, ভালো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং
আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা যক্ষ্মা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং, যক্ষ্মা একটি গুরুতর এবং
সংক্রামক রোগ, তবে সঠিক জ্ঞান, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং সময়োপযোগী চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময় করা সম্ভব।
যক্ষ্মা (TB) একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ এবং এটি যেভাবে পরিবার বা সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, তার কারণগুলো হলো, যক্ষ্মা সৃষ্টিকারী মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস (Mycobacterium tuberculosis) নামক ব্যাকটেরিয়া হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। একজন যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তি যখন কাশি দেন, তখন জীবাণুভর্তি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। পাশে থাকা সুস্থ ব্যক্তি সেই বাতাস শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে জীবাণু তার ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বেশিরভাগ পরিবারেই অনেক সদস্য একসাথে বসবাস করেন। এমন পরিবেশে, যদি একজন সদস্যের সক্রিয় যক্ষ্মা থাকে, তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ তারা আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠভাবে থাকেন এবং একই বাতাসে শ্বাস নেন। এ কারণেই প্রতি বছর নতুন নতুন যক্ষ্মা রোগী তৈরি হচ্ছে এবং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
উল্লিখিত প্রতিরোধমূলক এবং সচেতনতামূলক বিষয়গুলো অত্যন্ত জরুরি:
(ক) তিন সপ্তাহের বেশি কাশি হলে অবশ্যই কফ পরীক্ষা করানো উচিত:
এটি যক্ষ্মা নির্ণয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যত দ্রুত রোগ নির্ণয় হবে, তত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যাবে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।
(খ) যক্ষ্মা ধরা পড়লে চিকিৎসা নিন: যক্ষ্মা সম্পূর্ণরূপে নিরাময়যোগ্য একটি রোগ, তবে এর জন্য সঠিক নিয়মে
এবং পুরো কোর্স অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা জরুরি।
(গ) যক্ষ্মার চিকিৎসা বিনামূল্যে করা হয়: এটি একটি অত্যন্ত আশার কথা। বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও
স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে যক্ষ্মার চিকিৎসা ও ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এর ফলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিরাও চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন।
(ঘ) "মনে রাখবেন যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই এই কথার ভিত্তি নাই": এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। অতীতে
যক্ষ্মা নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক ভুল ধারণা ও ভীতি ছিল। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসার কল্যাণে যক্ষ্মা এখন সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। এই বার্তাটি
মানুষকে চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করবে এবং সামাজিক কুসংস্কার দূর করবে। যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সচেতন মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য। এই
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিয়ে একটি যক্ষ্মামুক্ত সমাজ গড়া যায়।